স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার কিছু সময় পরই নানার বাড়ির একটি কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে ১৮ বছর বয়সী রিয়া মনি মরদেহ। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে নানির মোবাইলের ইমু নম্বরে একটি ভিডিও পাঠিয়েছিলেন তিনি।
ওই ভিডিওতে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ি না করার কথা বলেছেন বলে পরিবারের দাবি। এ ঘটনায় তরুণীর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের কলাকূপা উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়া মনি ঢাকার একজন ভাঙারি ব্যবসায়ীর মেয়ে। তাঁর স্বামী ঢাকায় থাকেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাসা থেকে বেড়াতে কুলিয়ারচর উপজেলার কলাকূপা উত্তরপাড়ায় নানার বাড়িতে আসেন তিনি।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে রাতের খাবার শেষে রিয়া তাঁর মামাতো বোনের সঙ্গে নানার বাড়ির একটি দু-চালা টিনের ঘরে ঘুমাতে যান। ঘুমানোর আগে তিনি স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর মামাতো বোন ঘুমিয়ে পড়েন।
এরপর রাত ১২টা ৪ মিনিটের দিকে রিয়া তাঁর নানির মোবাইল ফোনের ইমু নম্বরে একটি ভিডিও পাঠান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে রিয়া তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ি না করার কথা বলেছেন। ভিডিও পাঠানোর পর পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, তা এখনো পরিবারের কাছে স্পষ্ট নয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে রিয়ার মামাতো বোন ইতি আক্তারের ঘুম ভাঙলে ঘরের বাতি জ্বালানোর পর তিনি রিয়াকে বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। এ দৃশ্য দেখে ইতি চিৎকার শুরু করলে তাঁর মামাতো ভাইসহ বাড়ির অন্য সদস্যরা দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন।
পরে বিষয়টি রিয়ার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। রিয়ার বড় বোন তাঁর স্বামীর বাসা থেকে এসে ঘটনাটি পরিবারকে জানান। খবর পেয়ে রিয়ার বাবা ঢাকা থেকে কুলিয়ারচরে আসেন। পরে তিনি থানা ভবনের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
রিয়ার নানির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ১৫ দিন ধরে তিনি নানার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানোর পর হঠাৎ এমন ঘটনায় পরিবারের সবাই হতবাক হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে নানির মোবাইলে পাঠানো ভিডিওটি ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে বলে পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন।
রিয়ার বাবা জানান, তাঁর মেয়ে স্বামীর বাসা থেকে বেড়াতে নানার বাড়িতে এসেছিল। মৃত্যুর আগে নানির মোবাইলে একটি ভিডিও পাঠিয়ে কাউকে দায়ী না করার কথা বলেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে কী কারণে তাঁর মেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
রিয়ার মামাতো বোন ইতি আক্তার বলেন, রাতে খাবার খেয়ে তিনি ও রিয়া একই ঘরে ঘুমাতে যান। পরে রিয়া তাঁর স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ঘুম ভেঙে গেলে বাতি জ্বালিয়ে রিয়াকে ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁর চিৎকারে বাড়ির লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন।
ঘটনার খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্যসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।