সাবেক স্ত্রীর ছবি ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় প্রবাসীর তিন বোন গ্রেপ্তার

আহমেদ সিফাত | কুলিয়ারচর
আগস্ট ৩, ২০২৬
সাবেক স্ত্রীর ছবি ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় প্রবাসীর তিন বোন গ্রেপ্তার

বিবাহবিচ্ছেদের পরও সাবেক স্ত্রীকে নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে জামাল হোসেন নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন সাবেক স্ত্রী।

কিশোরগঞ্জের আদালতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করার পর আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানায় এফআইআর করা হয়। এই মামলায় অভিযুক্ত প্রবাসীর তিন বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রিমা বেগম (২৪), আকলিমা বেগম (২২) ও শাপলা বেগম (৩২)। তারা মামলার প্রধান আসামি প্রবাসী জামাল হোসেনের সহোদর বোন।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামাজিকভাবে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে জামাল হোসেনের বিয়ে হয়। তবে পারিবারিক কলহের জেরে চলতি বছরের ১২ মে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দাম্পত্য জীবনের সময় জামাল হোসেন গোপনে স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিজের মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করেন। বিচ্ছেদের পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই ছবি পাঠিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি করা অর্থ না দিলে ছবিগুলো ফেসবুক ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই মানসিক চাপ ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগী নারী শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হন। গত ১৯ জুলাই তিনি কিশোরগঞ্জ আদালতে সাবেক স্বামী জামাল হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি কুলিয়ারচর থানায় রেকর্ড করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সারফিন মিয়ার নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রবিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার পিঠাপই গ্রাম থেকে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় এজাহারভুক্ত তিন নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসেন বর্তমানে গ্রিসে অবস্থান করছেন। ফলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সাইবার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে চাঁদাবাজি এবং নারীদের হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তাদের মতে, মূল অভিযুক্ত প্রবাসী জামাল হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা রোধে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কুলিয়ারচর'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ