কুলিয়ারচরে ইউএনও’র অভিযানে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেলো কিশোরী, পিতাকে জরিমানা

আহমেদ সিফাত | কুলিয়ারচর
আগস্ট ১, ২০২৬
কুলিয়ারচরে ইউএনও’র অভিযানে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেলো কিশোরী, পিতাকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক কিশোরী (১৩) বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ ঘটনায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিশোরীর পিতাকে বাবাকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে।

একই সঙ্গে মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার শর্তে পরিবারের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার এ অভিযান পরিচালনা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের মৃত গাজীউর রহমানের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান (৪৭) ও মোছা. নাসিমা বেগম (৪০) দম্পতির ১৩ বছর বয়সী কন্যা ইসরাতুল জান্নাত। সে স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে তার সঙ্গে পাশের বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মো. মাহফুজ আহমেদ অন্তর (২২) এর বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙানো, অতিথি আপ্যায়নসহ বরযাত্রা গ্রহণের প্রস্তুতিও চলছিলো।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় কনের অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করেন, তাদের ১৩ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে তার খালাতো ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

তদন্তে কনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিষয়টি বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে প্রতীয়মান হয়। এরপর আইনের ৮ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের পিতা আব্দুল মান্নানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

এছাড়া কিশোরীটির ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো অবস্থাতেই বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে তার পিতা-মাতার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করা হয়।

অভিযান চলাকালে কুলিয়ারচর থানার এসআই অর্পণ বিশ্বাস, বিয়েতে আগত অতিথিবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, "বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

কুলিয়ারচর'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ