গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর পর এখনও পতিত ফ্যাসিস্টের দোসররা আস্ফালন দেখাচ্ছে। বিদেশে থেকে হুমকিধামকি দিচ্ছে। একটা বিষয় স্পষ্ট, ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কবর রচিত হয়ে গেছে, আর ফেরার সুযোগ নাই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কিশোরগঞ্জে ছাত্র জনতার ভূমিকা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আবু হানিফ এসব কথা বলেন। রবিবার (২ আগস্ট) বিকালে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে জেলা গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গসংগঠন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আবু হানিফ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ৩৬ দিনে সংগঠিত হয় নাই। দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ এই ক্ষোভ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর আমরা হাসিনার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন করেছি। আমরাই এই গণঅভ্যুত্থানের পাটাতন রচনা করেছি। এই ২০২৪ সালের কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে আওয়ামী লীগের দমনপীড়নের ফলে ছাত্র জনতা রাজপথে নামে এবং শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দুঃশাসন অবসান হয়।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ বলেন, আমাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের সঙ্গী জামায়াত ও তাদের জোট কথায় কথায় সরকারকে ফেলে দেয়। একটা সরকার ৬ মাস হলো ক্ষমতায় আসছে তাদের সময় দিতে হবে, সরকার সবাইকে নিয়ে কাজ করবে। জামায়াত-এনসিপি যে সব উসকানি ও সংঘাতমূলক বক্তব্য দিচ্ছে, এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ উৎসাহ পাচ্ছে। সুতরাং নিষিদ্ধ দল উৎসাহ পায় এমন সব কর্মকাণ্ড পরিহার করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান রইলো।
আবু হানিফ আরো বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস সংকট, লোডশেডিং ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। সরকারকে এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে। সাধারণ মানুষেরা এসব ভোগান্তির প্রতিবাদে যেকোনো সময় রাস্তায় নামতে পারে। ফলে এই বিষয়টি এখনই সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী অভি চৌধুরী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমেদ, জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসকে রাসেল প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ কাজল, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমন খান, সাধারণ সম্পাদক পায়েল চৌধুরী, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আর কে রাকিব, সদস্য ইব্রাহিম, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান, জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক সরকার প্রমুখ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা ও অবদানের কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।