সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মিয়া। কিন্তু বিধিবাম! সৌদি আরবের কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান রাসেল মিয়া।
গত ১০ মার্চ রাসেল মিয়ার মর্মান্তিক এই মৃত্যুর পর পরিবারটিতে এখন কেবলই কান্না আর হাহাকার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল সদস্যকে হারিয়ে বিপাকে পড়েছে পাঁচ সদস্যের পরিবারটি। রাসেলের স্ত্রী ও চার সন্তান মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এদিকে পরিবারটিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে স্থায়ী কোনো সহায়তা মিলেনি।
এ রকম পরিস্থিতিতে নিহত রাসেলের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালীদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ মার্চ সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাসেল মিয়া মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা নিহত প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং ঈদ উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী, জামাকাপড় ও নগদ অর্থ প্রদান করেন। সে সময় পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রাথমিক ওই সহায়তার পর গত চার মাসে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা পায়নি পরিবারটি। ফলে সংসার চালানো, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়ে এক অসহায় অবস্থায় পড়েছে পরিবারটি।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, রাসেলের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার নিজেও অসুস্থ। স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলাতে না সামলাতেই মাত্র ১৬ দিনের মাথায় মারা যান তার মা। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি হারিয়েছেন একমাত্র আশ্রয়টুকুও।
রাসেলের বয়স্ক মা মোমেনা আক্তার জানান, "তিন বেলার খাবারের পরিবর্তে অনেক দিন একবেলা খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবার জোগাড় করাও এখন পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত রাসেলের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার বলেন, “স্বামীকে হারানোর পর কয়েকদিন সবাই খোঁজ নিয়েছিল। এখন আর কেউ আসে না। আমি নিজেও অসুস্থ। আমার গলায় অপারেশন হয়েছে। চার সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। অনেক সময় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
প্রতিবেশী আবু রায়হান জানান, রাসেল মিয়ার পরিবার এখন চরম মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
হোসেনপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক পৌর কাউন্সিলর মিসবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, "রাসেল মিয়ার পরিবার আজ চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। চারটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”