মাত্র দুই বছর বয়স হুমাইসা আক্তারের। একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা তছনছ করে দিয়েছে সব। কচি প্রাণটি নিথর হয়ে গেছে মুহূর্তের অসতর্কতায়। পৃথিবীকে চেনার-জানার আগেই সে পাড়ি জমিয়েছে অনন্তের পথে।
বাড়ির পাশে কৃষিজমির গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে অসময়ে থেমে গেছে হুমাইসার দেহঘড়ি। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার কামারকোনা মহল্লায় শিশুটির নানার বাড়িতে ঘটেছে মর্মান্তিক ঘটনাটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গর্তের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হুমাইসা পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার রকি মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনাটি কাঁদাচ্ছে পরিবার ও স্বজনসহ সবাইকে।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, হুমাইসার মা-বাবা ঢাকায় চাকরি করেন। বাবা-মায়ের চাকরির সুবিধার্থে কামারকোনা মহল্লায় নানা-নানি তাদের কাছে রেখে হুমাইসাকে লালনপালন করতেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সবার অজান্তে বাইরে চলে যায় হুমাইসা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
একপর্যায়ে বাড়ির পাশের কৃষিজমির একটি গর্তে জমে থাকা পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায় হুমাইসাকে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
কামারকোনা মহল্লার রকিব সর্দার বলেন, হুমাইসা আমার মেয়ের ঔরসজাত সন্তান ও আমাদের আদরের নাতনি। আমার মেয়ে ও জামাতা ঢাকায় চাকরি করার কারণে আমরা হুমাইসাকে লালন পালন করতাম। সকলের অজান্তে সে গর্তের পানিতে পড়ে যায়। পানি থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার হুসাইফা মারা গেছে বলে জানায়।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ শাহরিয়ার অনিক জানান, শিশুটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করা হয়।