কটিয়াদীতে আবাসিক এলাকায় লেড-এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা, উচ্ছেদের দাবিতে সড়ক অবরোধ

মাসুম পাঠান | কটিয়াদী
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কটিয়াদীতে আবাসিক এলাকায় লেড-এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা, উচ্ছেদের দাবিতে সড়ক অবরোধ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আবাসিক এলাকায় বন্ধ থাকা লেড-এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ মধ্যপাড়া এলাকায় থাকা কেজি এন্টারপ্রাইজের লেড-এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানাটি প্রায় চার মাস আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা চালু হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয়রা জানান, জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট জালাল উদ্দিন কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে একটি মহল কারখানাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অবরোধকারীরা বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় লেড-এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা কোনোভাবেই চালু করতে দেওয়া হবে না। পুনরায় চালুর চেষ্টা বন্ধ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনা করে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার দাবিও জানান তারা।

কেজি এন্টারপ্রাইজ লেড-এসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানার পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন,  সব ধরনের সরকারি অনুমোদন ও আইনকানুন মেনেই কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছে। কারখানায় প্রতিদিন ৫০ জন কর্মচারী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার কারখানা পরিদর্শন করে মেশিন চালিয়ে দেখেছেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে ছাড়পত্র দিয়েছেন। কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর আমরা হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে পুনরায় চালু করেছি। এ কারখানা পরিবেশ  কোনো ধরনের ক্ষতি করে না। সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনকে অনুরোধ করবো তিনি সরেজমিনে এসে কারখানাটি পরিদর্শন করুন। পরিবেশের ক্ষতি হলে কারখানা বন্ধ করে দেব।

পরিবেশ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. মমিন ভূঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানাটি বন্ধ হওয়ার পর এর ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছিল। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের একটি স্ট্যাটাসকো আদেশ নিয়ে কারখানাটি পুনরায় চালু করেছে।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্ধ থাকা একটি সিসা কারখানা পুনরায় চালুর প্রতিবাদে এলাকাবাসী মহাসড়কে আগুন দিয়ে অবরোধ করেছিল। পরে সবার সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। গোপনে পুনরায় চালু করতে চাইলে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে। আমাদের অবগত না করে কেন চালুর চেষ্টা করা হলো, এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষকে ডাকা হবে।

কটিয়াদী'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ